রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সাত বছরের শিশু ছোঁয়া মনিকে হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর শিশুটিকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহত শিশুর ফুপাতো ভাই মো. মনিরুল ইসলাম জিহাদকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে সিরাজগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর ফারুকের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন জিহাদ। এর আগে সকালে গাজীপুরের চৌরাস্তা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক রতন জানান, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জিহাদ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। সে জানায়, গত বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে সে তার মামাতো বোন ছোঁয়া মনিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ছোঁয়া চিৎকার করে এবং বিষয়টি বাবা-মাকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এতে ক্ষিপ্ত ও আতঙ্কিত হয়ে জিহাদ পাশের একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের দেয়ালের সঙ্গে ছোঁয়ার মাথা আছড়ে তাকে হত্যা করে। এরপর মরদেহ সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এসআই নাজমুল আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর জিহাদ বাড়িতে ফিরে কিছুই হয়নি এমন ভান করে। সে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ছোঁয়াকে খোঁজার নাটকে অংশ নেয় এবং এমনকি মসজিদে মাইকিংও করে। কিন্তু বিকেলে যখন টয়লেট থেকে শিশুটির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তখন সে কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জিহাদের রক্তমাখা টি-শার্ট ও লুঙ্গি আলামত হিসেবে উদ্ধার করেছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেলে প্রতিবেশীর পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে ছোঁয়া মনির মরদেহ উদ্ধারের পর তার দাদি মোছা. ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ডিবি পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হলো।