অনলাইন ডেস্ক: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য চন্দ্রগ্রহণ উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন হাজারো পর্যটক। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত বারোটা পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই সৈকতের বিস্তীর্ণ বালুচরে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে জমে ওঠে চন্দ্রগ্রহণ উৎসবের আমেজ।

চন্দ্রালোকে ঝলমল করা সমুদ্রের পানি, ঢেউয়ের গর্জন আর আকাশের গ্রহণ একসাথে যেন এক অপূর্ব আবহ তৈরি করে পুরো কুয়াকাটা সৈকতে। সৈকতের বেঞ্চে বসে কিংবা বালুচরে চাদর পেতে অনেকেই পরিবারসহ চোখ মেলে তাকিয়ে ছিলেন আকাশের দিকে। অনেকে আবার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন, কেউ ভিডিও করে বন্ধুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন এই অসাধারণ অভিজ্ঞতা।

পর্যটক মেহেদী হাসান বলেন, “শুধু চন্দ্রগ্রহণ দেখতেই আমরা কুয়াকাটা এসেছি। সমুদ্রের ঢেউ আর আকাশের চাঁদ একসাথে দেখা সত্যিই অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। এ মুহূর্ত জীবনের অন্যতম স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

প্রথমবার সরাসরি চন্দ্রগ্রহণ দেখা পর্যটক সুমাইয়া আক্তার বলেন, “এ এক ভিন্ন রকম অনুভূতি। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাই অন্যরকম হয়ে গেছে। আগে শুধু বইতে আর টিভিতে দেখেছি, কিন্তু নিজের চোখে দেখা সত্যিই অন্যরকম।”

এ ছাড়া খুলনা থেকে আসা পর্যটক দেলোয়ার হোসেন জানান, “টিভি বা মোবাইল স্ক্রিনে অনেকবার দেখেছি, কিন্তু প্রকৃতির মাঝে দাঁড়িয়ে দেখা- এর আনন্দ আসলেই ভিন্ন। প্রকৃতির সাথে এই সংযোগটা অসাধারণ।”

কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চন্দ্রগ্রহণ উপলক্ষে গত দু’দিন ধরেই পর্যটকের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। হোটেল-মোটেলগুলোতে বুকিং বেড়ে যায়, রেস্তোরাঁ ও দোকানগুলোতেও ভিড় ছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে অনেক বেশি।

স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রকৃতির এমন দৃশ্য দেখতে অনেকে এখানে এসেছেন। ফলে আমাদের ব্যবসাতেও অনেকটা সুবিধা হয়েছে। পর্যটকরা খুশি হলে আমরাও খুশি।”

এদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ, পর্যটন পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা নিয়োজিত ছিলেন। ফলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

মহাজাগতিক এ বিরল দৃশ্য কেবল পর্যটকদের চোখেই নয়, কুয়াকাটা সৈকতের বালুচরেও এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। প্রকৃতির এমন অপূর্ব সৌন্দর্য আর মহাজাগতিক ঘটনায় পর্যটকরা মুগ্ধ হয়ে বাড়ি ফিরছেন অমূল্য অভিজ্ঞতা নিয়ে।