পাহাড়ে রঙিন প্রবারণা পূর্ণিমাপাহাড়ে রঙিন প্রবারণা পূর্ণিমা

অনলাইন ডেস্কঃ  আতশবাজির ঝলকানি। পূর্ণিমার আকাশে রঙ বে-রঙের ফানুস। চারপাশ থেকে ভেসে আসা সাধু সাধু সাধু ধ্বনি। আর সবুজ পাহাড়ের বুকজুড়ে জ্বল জ্বল করা হাজার প্রদীপ। পাহাড়বাসির আনন্দ বাড়িয়েছিল কয়েকগুণ। এরই মধ্যে হিংসা বিদ্বেষ ত্যাগ করে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে হাজারো বৌদ্ধ ধর্মালম্বী নারী-পুরুষ।

আরও পড়ুনঃ গাইবান্ধায় উপ-নির্বাচনেকে কেন্দ্র করে আ.লীগের অফিসে ভাঙচুর

পূণ্যার্থীর পাশাপাশি বিহারে বিহারে ঢল সাধারণ মানুষেরও। এসময় পাহাড়ি-বাঙালির মিলন মেলায় পরিণত হয় পুরো উৎসবস্থল। এমন এক উৎসব মুখর পরিবেশে এবার পার্বত্যাঞ্চলে পালিত হয়েছে প্রবারণা পূর্ণিমা। গত রবিবার শুরু হওয়া তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের প্রবারণা উৎসব শেষ হয়েছে সোমবার।

জানা গেছে, প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের অন্যতম দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। পার্বত্যাঞ্চলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা, মারমা ও রাখাইয়নরা ধর্মীয় নানা আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে পালন করে থাকে এ উৎসব। দুই দিনব্যাপী চলা এ পূর্ণিমা উৎসবের এখনো জোয়ার বইছে পাহাড়ে।

সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাহাড়ের বিহারে বিহারে ছিল নানা অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। দিনব্যাপী চলে পূজা আর প্রার্থনা। বৌদ্ধ পতাকা আর কল্পতরু হাতে দলে যোগ দিয়েছে বিভিন্ন এলাকার বৌদ্ধ ধর্মালম্বী নারী-পুরুষ। তাদের কণ্ঠে সাধু, সাধু, সাধু ধ্বনি উৎসবের আমেজ ছড়িয়েছে পাহাড়ে।

রাঙামাটি রাজ বনবিহারের উপাসক-উপাসিকা পরিষদ আহবায়ক গৌতম দেওয়ান জানা যায়, রাঙামাটি রাজ বনবিহার, রাঙামাটি বৌদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার, আনন্দ বিহার, সাক্ষ্যমনি বৌদ্ধ বিহার, ধনপাতা বৌদ্ধ বিহারসহ বেশ কয়েকটি বিহারে সংঘ দান, অস্ট পরিস্কার দান, বুদ্ধ মূর্তি দান, মধু দানকার্য সম্পাদন করা হয়। এসময় পূণ্যার্থীরা বৌদ্ধ ভিক্ষুর কাছ থেকে পঞ্চশীল গ্রহণ করেন। প্রদীপ প্রজ্জলন করা হয় বুদ্ধ মূর্তির সামনে।

বিকাল ৪টায় শুরু হয় মঙ্গল প্রার্থনা ও আকাশ প্রদীপ প্রজ্জ্বলনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচী। তাই বিকাল হওয়ার আগে মোমবাতি ও ফানুস হাতে বৌদ্ধ বিহারে হাজির হয় বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষরা। মোমবাতির আলোয় রঙিন কাগজের ফানুস আর আতশবাজিতে সজ্জিত হয় পুরো আকাশ। এসময় সবার মুখে একটাই শব্দ উচ্চারিত হয়-সাধু সাধু সাধু। রাঙামাটি রাজ বনবিহারে সংরক্ষিণ বনভান্তের মোমিতেও পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন ভক্তরা। ধর্মীয় দেশনা দেন বৌদ্ধ ভিক্ষরা।

প্রসঙ্গত, মূলত এ প্রবারণা উৎসবের মধ্যে দিয়ে পার্বত্যাঞ্চলে শুরু হয়েছে কঠিন চীবনোৎসব। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কঠিন চীবর দানের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে মাসব্যাপী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ধর্মীয় উৎসব।