শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের জাজিরায় বিএনপি নেতা খবির সরদারকে হত্যার ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। মামলার প্রধান আসামি আলমাস সরদারকে এবার বস্তাবন্দি অবস্থায় মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ হিসেবে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের উমর উদ্দিন মাদবরকান্দি এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পাশ থেকে মাটি খুঁড়ে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ওই এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পাশ থেকে পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা মাটি খুঁড়ে একটি বস্তা দেখতে পায় এবং থানায় খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তার ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে আলমাসের স্বজনরা এসে এটি তারই মরদেহ বলে শনাক্ত করেন।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম বলেন, “বিএনপি নেতা খবির সরদার হত্যা মামলার প্রধান আসামি আলমাস সরদারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই আমরা তদন্ত শুরু করেছি এবং দ্রুতই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২৭ আগস্ট) রাতে মসজিদের মাইকে আজান দেওয়ায় ঘুমের ব্যাঘাত হচ্ছে বলে ইমাম ক্বারী মোহাম্মদ আলীকে হুমকি দেন আলমাস সরদার। এর প্রতিবাদ করায় ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খবির সরদারকে তার দলবল নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন আলমাস।

ওই ঘটনায় খবির সরদারের ভাই দানেশ সরদার বাদী হয়ে আলমাসকে প্রধান আসামি করে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে জাজিরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলার প্রধান আসামিই এবার লাশ হলেন।