কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা নগরীর বিসিক শিল্পনগরীতে কথিত চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে সায়েম নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ আগস্ট) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ রোববার (২৪ আগস্ট) গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মেহেদি হাসান (১৮), জোবায়ের আহমেদ (২০), সিয়াম (১৮), মেহেদী (২১), নাঈম (২১), এমদাদ (২১) ও ঈমাম হোসেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত সায়েমের বিরুদ্ধে বিসিক এলাকার বিভিন্ন কারখানা থেকে চুরি, ছিনতাই এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সায়েম নগরীর অশোকতলা এলাকার জান্নাত ফুড ফ্যাক্টরিতে চাঁদা চাইতে যায়। এ সময় কারখানার লোকজন তাকে মারধর করে আটকে রাখে।
খবর পেয়ে সায়েমের সহযোগীরা ঘটনাস্থলে এসে হট্টগোল শুরু করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে সায়েমকে হাত-পা বেঁধে পুনরায় মারধর করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় নিহত সায়েমের বাবা, অটোরিকশা চালক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সায়েম তার বাবার সাথেই অশোকতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন, তাদের গ্রামের বাড়ি রংপুর জেলায়।
ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, “মামলার পর আমরা অভিযান চালিয়ে গণপিটুনিতে সরাসরি জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আজ তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।”
